গ্যাস চেম্বার
আধুনিক মানে ঠিক কি বোঝো?
সব সময় দেখানো,
খুব খুশি খুশি একটা ভাব,
এই তো দারুন আছি,
আমার তো গাড়ি আছে, ফ্ল্যাট আছে --
সন্তানের ১০০ এ ৯৯ নম্বর আছে,
আমি তো দারুন সুখী!
তুমি কি আমার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সুখী আছো?
তোমার কি আছে?
পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়ার পাশবিক আনন্দ,
ওটাই আধুনিক সুখের সংজ্ঞা।
কেমন একটা ধনতান্ত্রিক খুশী, তাই না?
পুরো ব্যাপারটার মধ্যে একটা আষ্টে গন্ধ --
গা গুলিয়ে ওঠে।
সমাজবাদের রেশনের চাল খাওয়া লোক গুলো,
হমম, আজও বেঁচে আছে,
বড় কোন ঠাসা।
তবে বেশির ভাগটাই গিরগিটি, আরশোলা,
পেটের দায় না বিবর্তনবাদ?
সে কথা থাক,
বাঙালির আর একটা নোবেলের রসদ,
ধুতি পাঞ্জাবিটা ছাতি চওড়া করে আজও।
বড় গ্লানি হয় ---
যখন কোন এক মধ্য রাতের মুখহীন
বায়বীয় আলোচনায় হঠাৎ আবিস্কার,
হাফ প্যান্টের বন্ধু
হিসেব করে দাঁত কিড়মিড় করছে ওপাশ থেকে,
এ সালাটা বহুত ভালো আছে।
সবাই ব্যস্ত দিবারাত্র,
সবাই কে জানাতে,অনেক সুখে আছি
আর
পাল্টা খোঁজ নিতে,
আরও বেশি সুখে কেউ নেই তো!!!
নির্মল হাসির পিছনের দুঃখের কাহিনী ---
কাকে বলবেন?
কে শুনতে চায়?
মেপে নিয়েছে তো ---
৫০ হাজার মাইনে,
ছেলে ইস্কুলে, ছোট সংসার, বউ চাকুরে
একটা swift dzare
দু তিন বছর এ একটা ওই থাইল্যান্ড কি মলদ্বীপ।
আপনার দুঃখ থাকতেই পারে না!!!
ন্যাকামো, সব নাটক।
জীবন, মন সব খুন হচ্ছে,
আহা, বড় ভুল হল।
আত্মহত্যা হচ্ছে,
আর বাকিরা?
গ্যাস চেম্বারে দম আটকে মরছে।
বলতে পারে না, কাঁদতে পারে না,
সমাজ সে কান্না কোনদিন মেনে নেবে না।
প্রতারিত,
নিষ্পেষিত, ছড়িয়ে ছিটিয়ে অসংখ্য অপরাধ,
শোষণ এর কোপ।
সুস্থ পরিবার, দাম্পত্য থেকে অনেক দূর,
হতাশা নিত্য সঙ্গী।
কিন্তু সমাজ?
সেতো কোন খুৎ দেখতে পায় না,
চুপ!!!
সবার কষ্ট, দুঃখ থাকার অধিকার নেই।
No comments:
Post a Comment